Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts
Showing posts with label বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি. Show all posts

Friday, August 19, 2016

ডিজিটাল এবং অ্যানালগ প্রযুক্তি কি? ডিজিটাল প্রযুক্তি বৃত্তান্ত! মেগা টিউন

বন্ধুরা চলুন আজ ফিরে যাই ১৯৭০ সালের দিকে, যখন সবচাইতে মজার বিষয় ছিল আমাদের হাতে ডিজিটাল ঘড়ি।
এর আগে ধির গতির কাঁটার ঘুরে আসা থেকে সময় নির্ণয় করতাম আমরা।
আর যেটাকে বলা হতো পুরাতন অ্যানালগ ঘড়ি। যাই হোক, তারপর থেকে আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের অনেক ধারণা বেড় করে ফেলেছি।
বর্তমানে আমাদের ঘরের টিভি থেকে আরম্ভ করে রেডিও, মিউজিক প্লেয়ার, ক্যামেরা, সেলফোন এমনকি আমাদের পড়ার বই গুলোও হয়ে উঠেছে ডিজিটাল।
তো চলুন বন্ধুরা আজ আলোচনা করা যাক অ্যানালগ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে।
চলুন দেখে নেওয়া যাক কে সর্বউত্তম। এবং সাথে অবশ্যই থাকছে বরাবরের মতো অনেক কিছুই।

অ্যানালগ প্রযুক্তি কি?

ডিজিটাল এবং অ্যানালগ (1)

                          
 আরো পড়ুনঃ- 

              ইনক্রিপশন (Encryption) কি? ইনক্রিপশন যেভাবে ইনক্রিপশন কাজ করে

              ওয়াইফাই (WiFi) সম্পর্কে বিস্তারিত | যেভাবে ওয়াইফাই কাজ করে এবং কীভাবে ওয়াইফাই নিরাপদ রাখবেন?
স্মার্টফোন ব্যবহারের সতর্কতা এই স্মার্টফোন’ই হতে পারে ক্যান্সার এর কারণ সচিত্র আলোচনা
আমরা ডিজিটাল প্রযুক্তি বলতে কি বুঝি?
মানুষ সহজেই ডিজিটাল বলতে বোঝে যেটা কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং সাধারনত ইলেক্ট্রনিক কোন কিছু, ব্যাস সিম্পল।
কিন্তু সত্যি বলতে অ্যানালগ প্রযুক্তির ধারণা এ থেকে আরো বেশি বিভ্রান্তিকর—
বিশেষ করে যখন কেউ এ নিয়ে সহজ ভাষায় লেখার চেষ্টা করে। তাহলে আসলে বিষয়টি কি? চলুন সহজ করে জানার চেষ্টা করি।
ভেবে দেখুন আপনার পুরাতন কাঁটা ওয়ালা হাত ঘড়ির কথা, যেখানে তিনটি কাঁটা অবিরত একটি ডায়ালের চারপাশে ঘুরতে থাকে।
কাঁটার অবস্থান সময়কে পরিমাপ করে। ঘড়িটির কাঁটা কতদূর পর্যন্ত ঘুরে গেলো সে অনুসারে সরাসরি মাপা হয়ে থাকে জে কয়টা বাজে।
সুতরাং যদি ঘণ্টার কাঁটা ডায়ালের দুটি অংশ অতিক্রম করে তবে সময় বেশি চলে গেছে বলে গণ্য করা হয় যেখানে একটি অংশ অতিক্রম করাকে এর চেয়ে কম
সময় যাওয়া ধরা হয়ে থাকে। তো ঠিকই তো আছে তাই না? আপনি হয়তো ভাবছেন, “ভাই এই গুলো উদাহরণ দিয়ে কি বোঝাবার চেষ্টা করছেন?
এটা তো একদম জানা ব্যাপার!” কিন্তু এখানেই রয়েছে আসল প্যাঁচ।
এখানে পয়েন্ট হলো, ডায়ালের উপর দিয়ে কাঁটা গুলো সরানোরা করা বিগত সময় প্রকাশের একটি মাধ্যম মাত্র।
কিন্তু বাস্তবিক ভাবে সময় এবং ঘড়ি কিন্তু এক জিনিষ নয়।
ঘড়ি শুধু মাত্র সময় প্রদর্শনের একটি সাদৃশ্য যেটি বারবার পরিবর্তিত হয়ে নতুন পরিমাপ প্রদর্শিত করে।
অ্যানালগ সিগন্যাল অনেকটা একই ধারনার উপর কাজ করে থাকে।
অ্যানালগ সিগন্যাল এমন জিনিষ যা বারবার পরিবর্তন হয়ে ডাটা প্রদর্শন করে।
বন্ধুরা ভেবে দেখুন আগের এএম রেডিও অথবা সিলভার অ্যান্টেনা লাগানো টিভির কথা।
এগুলো ডিভাইজ এমন সিগন্যাল ব্যবহার করে কাজ করতো যা বারবার তরঙ্গ পরিবর্তন করে সেখানে আলাদা আলাদা ডাটা নিয়ে আসতো।
অ্যানালগ তরঙ্গ বিভিন্ন ধরনের ইলেক্ট্রনিক্স ডায়োটের সাহায্যে সহজেই ডি-কোড হতে পারে।
ইলেক্ট্রনিক্স ডায়োট আসল ডাটা গুলোকে স্ক্রীনে প্রদর্শিত করে বা স্পীকারে শব্দ হিসেবে পাঠিয়ে দেয়।
যখন আপনি মাইকের সামনে কিছু বলেন তখন আপনার কণ্ঠ থেকে শব্দ বেড় হয়ে বাতাসে কম্পাঙ্কের সৃষ্টি করে এবং আপনার মাইক্রোফোন সেই কম্পাঙ্ককে
ইলেক্ট্রনিক কম্পাঙ্কে পরিণত করে। আপনার কথা বলার সাথেসাথে বারবার ইলেক্ট্রনিক কম্পাঙ্কের নতুন রুপ তৈরি হয় এবং স্পীকারে সেটি পৌঁছে শব্দের সৃষ্টি করে।
বন্ধুরা এটাই হলো মূলত অ্যানালগ প্রযুক্তি।

অ্যানালগ পরিমাপ এবং তথ্য সংরক্ষন পদ্ধতি

ডিজিটাল এবং অ্যানালগ (2)

পেছনের কয়েক দশকের আগে অর্থাৎ কম্পিউটার সম্পূর্ণভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দখলের আগে সকল প্রকারের পরিমাপ যন্ত্র গুলো ছিল অ্যানালগ প্রযুক্তির।
যদি আপনার তখন কোন সার্কিটের কারেন্ট পরিমাপ করার প্রয়োজন পড়তো তবে তার জন্য রয়েছিল কাঁটা ওয়ালা কয়েল মিটার।
যেখানে একটি কাঁটা নড়াচড়া করে তার অবস্থান পরিবর্তন করে কারেন্ট মাপতে সাহায্য করতো।
কাঁটাটি ডায়ালের যতো বেশি অংশ অতিক্রম করতো আপনাকে ভেবে নিতে হতো ততোবেশি কারেন্ট আপনার সার্কিটে রয়েছে।
তো এখানে ঐ পয়েন্টারটি হলো আপনার সার্কিটে থাকা কারেন্টের সাদৃশ্য।
এরকম সকল প্রকারের পরিমাপ করার যন্ত্র গুলো একই পদ্ধতিতে কাজ করতো সেটা ওজন মাপার মিটার হোক আর গাড়ীর গতি মাপার মিটার হোক আর ভূমিকম্প
পরিমাপ করার যন্ত্র হোক।
এবার কথা বলি অ্যানালগ প্রযুক্তিতে কীভাবে ডাটা সংরক্ষন করা হতো সেই ব্যাপারে।
অ্যানালগ প্রযুক্তি মানেই যে শুধু নড়াচড়া করা কাঁটা আর ডায়ালের ব্যবহার তা কিন্তু নয়।
যখনই আমরা বলি যে এটি অ্যানালগ প্রযুক্তি তখনই এর মানে হলো এটি ডিজিটাল নয় বরং এটি অনেকটা হাতে কলমের কোন জিনিসের মতো।
অর্থাৎ সেখানে ডাটা আদান প্রদানে নাম্বার ব্যবহার না করে সরাসরি মূল বিষয়ের সাদৃশ্য ব্যবহার করা হয়।
আগের যুগের ফিল্ম ওয়ালা ক্যামেরা এর একটি ভালো উদাহরণ হতে পারে।
আপনি যখন এই ক্যামেরাতে ছবি তোলেন তখন তা একটি ট্রান্সপারেন্ট প্ল্যাস্টিক ফিল্মে আসল ইমেজের সাদৃশ্য তৈরি করে।
ট্রান্সপারেন্ট প্ল্যাস্টিক ফিল্মের গায়ে এক প্রকারের রুপা নির্ভর কেমিক্যালের প্রলেপ লাগানো থাকে যা আলোর উপর প্রতিক্রিয়া দেখায়।
যখন সেই ফিল্মটি ল্যাবে উন্নতিকরণ করা হয় তখন একটি পরিষ্কার ছবি পাওয়া যায়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে এই ছবিটি হলো আপনি যা রেকর্ড করে চেয়েছিলেন
তারই একটি সাদৃশ্য।
যেমন ধরুন আপনি আপনার আঙ্গুল পরিমাপ করার জন্য একটি কাঠের স্কেল ব্যবহার করলেন।
এবার আপনার আঙ্গুলের পরিমাপ অনুসারে স্কেলে একটি কলম দিয়ে দাগ কেটে রাখলেন।
এখন একটু ভেবে দেখুন বন্ধুরা ঐ স্কেলের দাগ কাটা অংশ পর্যন্ত কিন্তু আপনার আঙ্গুলের সাদৃশ্য অর্থাৎ আপনার আঙ্গুল আর ডাক কাটা স্কেল একই লম্বা।
অবশ্যই কিন্তু স্কেলটি আপনার আঙ্গুল নয় বরং সাদৃশ্য।
আমি একই ব্যাপার বিভিন্ন উপমা দ্বারা বোঝানোর চেষ্টা করছি কারন অ্যানালগ প্রযুক্তির মূল মন্ত্র হলো এটাই।
এই প্রযুক্তিতে কোন ডাটা বা তথ্য সংরক্ষন করার জন্য সরাসরি যেটি সংরক্ষন করতে চান তার সাদৃশ্যকে সংরক্ষিত করা হয়ে থাকে।
বন্ধুরা যেমন ধরুন পুরাতন ফিতা ওয়ালা ক্যাসেট রেকর্ডারের কথা।
সেখানে যখন কিছু রেকর্ড করা হয় তখন আপনার শব্দ গুলো একই তরঙ্গ আকারে অর্থাৎ মূল শব্দের সাদৃশ্য হয়ে একটি চৌম্বক ওয়ালা প্ল্যাস্টিক ফিতাতে সংরক্ষিত
হয়ে থাকে। এবং সেখানে আসল শব্দের এনালজি সেভ হয় যেটা আপনি পড়ে প্লে করতে পারেন।

অ্যানালগ প্রযুক্তির সুবিধা ও অসুবিধা

ডিজিটাল এবং অ্যানালগ (3)

যখন অ্যানালগ তরঙ্গের মাধ্যমে কোন ডাটা পাঠানো হয়ে থাকে তো সেই তরঙ্গে অনেক ছোট পরিমানের তথ্য থাকায় এবং মূল তথ্যর সরাসরি সাদৃশ্য থাকায় এই
তরঙ্গ আরেকটি তরঙ্গের সাথে সহজেই মিশে যেতে পারে।
এর জন্য দেখা যায় যে পুরাতন রেডিও এবং অ্যান্টেনা ওয়ালা টিভিতে এক চ্যানেলের সাথে আরেক চ্যানেল এসে গোলমাল পাকায়।
আর যেহেতু এই প্রযুক্তি বারবার পরিবর্তিত সিগন্যালের উপর এবং মূল ডাটার সাদৃশ্যের উপর কাজ করে তাই এই প্রযুক্তির কোন ডাটাকে কপি করতে অনেক সময় লেগে যায়। যেমন ধরুন একটি ক্যাসেট থেকে হুবুহু আরেকটি ক্যাসেট বানাতে চাইলে আগের ক্যাসেটকে প্লে করে বসে থেকে তারপর আরেকটা ক্যাসেট রেকর্ড করতে হবে। যতক্ষণ আগের ক্যাসেটের শব্দ সম্পূর্ণ শোনা না হবে ততোক্ষণে আরেকটি ক্যাসেট রেকর্ডও করা যাবে না।
ডিজিটাল প্রযুক্তির অনেক সুবিধা রয়েছে বলে কিন্তু এটা নয় যে তা সবসময়ই অ্যানালগ প্রযুক্তি থেকে ভালো হবে।
অবশ্যই এই প্রযুক্তিরও কিছু সুবিধা রয়েছে। অ্যানালগ ঘড়ি ডিজিটাল ঘড়ির তুলনায় বেশি নির্ভুল হতে সক্ষম।
অ্যানালগ ঘড়িতে অনেক সূক্ষ্ম সময় দেখানো সম্ভব যা ডিজিটালে সম্ভব নয়। তাছাড়া আপনি তো জানেনই যে পৃথিবীর সবচাইতে দামী ঘড়িগুলো অ্যানালগ হয়ে থাকে।
একটি মজার ব্যাপার হলো কোন ডিজিটাল তথ্য যতটা দীর্ঘস্থায়ী ভাবে সংরক্ষিত রাখা যায় অ্যানালগ তথ্যও সমান স্থায়ী ভাবে সংরক্ষিত রাখা যায়।
যাদুঘর গুলোতে হাজার বছর পুরাতন পাথর লিপি এবং প্রথম কাগজ লিপি সংরক্ষিত রাখা আছে।
কিন্তু আপনি কি বলতে পারবেন, প্রথম কোন টেক্সট ম্যাসেজটি পাঠানো হয়েছিলো বা প্রথম কোন কলটি করা হয়েছিলো এবং কি বলা হয়েছিলো?
কিছু পুরাতন কম্পিউটারে ব্যবহার হওয়া ফাইল এখনকার আধুনিক কম্পিউটারে চালানো অসম্ভব।
এমনকি এখন আর কোন আধুনিক কম্পিউটারেই ফ্লপি ডিস্ক থাকে না, এর মানে ফ্লপি ডিস্ক থেকেও আপনার কম্পিউটারে ডাটা রিকভার করা সম্ভব নয়।
কিন্তু টেপ যতই পুরাতন হোক ক্যাসেট প্লেয়ার কিন্তু প্লে করবেই।
সবচেয়ে বড় কথা হলো ডিজিটাল প্রযুক্তি আজকেরটা আর কাল নাও চলতে পারে কেনোনা ডিজিটাল প্রযুক্তি পরিবর্তনশীল।
কিন্তু অ্যানালগ প্রযুক্তি সর্বদায় তার নিজের স্থানেই থাকবে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি বৃত্তান্ত

ডিজিটাল এবং অ্যানালগ (4)

বন্ধুরা এবার বিশদ আলোচনা করবো ডিজিটাল প্রযুক্তি নিয়ে। অ্যানালগ প্রযুক্তি বোঝাতে যতটা কষ্ট হয়েছিলো তা কিন্তু এবার একদমই লাগবে না।
যাই হোক, ডিজিটাল প্রযুক্তি কিন্তু সম্পূর্ণই আলাদা বিষয়।
যেখানে অ্যানালগে সরাসরি শব্দ, ছবি, তরঙ্গ ইত্যাদি সংরক্ষন করে রাখা হতো সেখানে ডিজিটালে সকল ডাটা গুলোকে কনভার্ট করে ডিজিট বা সংখ্যায় পরিণত করে
রাখা হয়। আজকের দিনে প্রায় সকল প্রকারের ডিভাইজে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। প্রত্যেকটি শব্দ এবং ছবিকে ডিজিটাল বিটস এ পরিণত করা হয়।
বিটস মানে ১ এবং ০ এই সংখ্যা।
এই প্রযুক্তিতে ডাটা গুলো ১ এবং ০ এর একটি নির্ভুল সাদৃশ্যে থাকে তাই এই ডাটা কপি করা এবং হাজারটা ফাইল তৈরি করা ব্যাস কয়েক মিনিটের কাজ।
তাছাড়া এই প্রযুক্তিতে কখনোই সিগন্যাল গোলমাল বা এক সিগন্যালের সাথে আরেকটি সিগন্যালের বাঁধা ঘটবে না।
যেমন আমরা মোবাইল ফোনে যে কথা বলি তা কনভার্ট হয়ে নাম্বারে পরিণত হয় এবং এই নাম্বার গুলো পাঠানো হয়ে থাকে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে।
অপর ইউজারের কাছে নাম্বার গুলো পৌঁছে তা ডি-কোড হয় এবং সে তা শুনতে পায়। সিগন্যাল খারাপ হওয়া মানে কথা আটকে যাওয়া কেনোনা খারাপ সিগন্যালে
কিছু বিট মিস হয়ে যেতে পারে। কিন্তু এমনটা হবে না যে আরেকজনের কথা এসে আপনার ফোনে শোনা যাচ্ছে কিংবা শব্দ পরপর সরসর শব্দ করছে।
কিন্তু কোন শব্দ রেকর্ড করার সময় ডিজিটাল এবং অ্যানালগ উভয় প্রযুক্তিরই প্রয়োজন পড়ে।
আপনার কণ্ঠ থেকে যে আওয়াজ বেড় হয়ে আসে তা কিন্তু প্রাকিতিক ভাবে অ্যানালগ প্রযুক্তি। তাহলে কীভাবে কোন অ্যানালগ রেকর্ড ডিজিটাল ভাবে কোন
অনলাইন রেডিও অ্যাপে বা এমপি৩ ফাইলে শোনা যায়। বন্ধুরা এটি সম্পূর্ণ করতে যে পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়ে থাকে তা হলো সাম্পলিং।
আবার একে অ্যানালগ-টু-ডিজিটাল কনভারসেশন (ADC) বলা হয়ে থাকে।
এই পদ্ধতি অ্যানালগ তরঙ্গ ফর্ম থেকে স্ন্যাপসট গ্রহন এবং ডিজিটাল বিটে সংরক্ষন করে।
তাই বিট যতো বেশি হয়ে থাকে ডাটা কোয়ালিটি ততোবেশি ভালো হয়ে থাকে।
এজন্য এমপি৩ বা ভিডিও ফাইলে ১২৮ বিটস প্রতি সেকেন্ড, ১৯২ বিটস প্রতি সেকেন্ড বা ৩২০  বিটস প্রতি সেকেন্ড ইত্যাদি রেট দেখতে পাওয়া যায়।
আবার আপনার ফোনের এম্পিথ্রী মিউজিক যখন আপনার সাউন্ড সিস্টেমে প্লে করেন তার লাগিয়ে তখন তা ডিজিটাল-টু-অ্যানালগ কনভার্ট হয়ে যায়।
এম্পিথ্রী মিউজিক একটি ইলেকট্রিকাল সিগন্যালে পরিবর্তন হয়ে যায়।
যে সিগন্যালে কারেন্ট বারবার তার ভোল্টেজ পরিবর্তন করে এবং এই পরিবর্তিত ভোল্টেজের ফলে স্পীকারে সাউন্ড ভেসে আসে।
ডিজিটাল উপায়ে অনেক কম জায়গায় এবং পোর্টআবোল ভাবে অনেক তথ্য সংরক্ষন করা সম্ভব।
ভেবে দেখুন এখন ১ লাখ মিউজিক আপনার পকেটের সমান জায়গাতে আটতে সক্ষম কিন্তু যদি সেগুলো টেপে সংরক্ষন করার কথা ভাবেন তবে একটি ঘর
লাগবে তা সংরক্ষন করবার জন্য। আবার ৫০ হাজার বই আটতে পারে একটি একটি বইয়ের সমান জায়গাতে যেখানে ফুটবল মাঠের সমান জায়গা লাগত।
তাছাড়া যেকোনো ডিজিটাল ছবি বা অডিও বা ভিডিও ফাইলকে সহজেই এডিট এবং প্লে করা সম্ভব।
আগের যুগের ফটোগ্রাফাররা তাদের মেধার জন্য পুরস্কার পেতেন।
কিন্তু আজ ফটো প্রসেসিং সফটওয়্যার ব্যবহার করে তোলা ফটোকে যেকোনো রূপে রূপান্তরিত করা সম্ভব।
তাছাড়া সবচাইতে সুবিধার ব্যাপার হলো ডিজিটাল ডাটা করা যায়। যার ফলে ডাটার ট্রান্সমিশন অনেক নিরাপদে করা সম্ভব।
যেমন ধরুন সেলফোনের কথা গুলো পাঠানোর আগে তা ইনক্রিপটেড করানো হয়।

শেষ কথা

বন্ধুরা আজকের আলোচনায় আমি এতোবেশি মগ্ন হয়ে পড়েছিলাম যে টিউনটি হয়তো অনেক লম্বা করে ফেলেছি।
তবে আমি সর্বোউচ্চ চেষ্টা করেছি বিষয় গুলোকে সহজ করে তুলবার জন্য।
আশা করছি আপনারা আজ বহুত কিছু জেনেছেন এবং আপনাদের অনেক ভালো লেগেছে। দয়া করে আপনার মতামত নিজে জানাবেন আমাকে কেনোনা আপনার
মূল্যবান মতামতের অপেক্ষায় আমি সর্বদা হন্যে হয়ে থাকি। আর টিউনটি শেয়ার করতে ভুল্লে কিন্তু একদমই চলবে না। ধন্যবাদ 🙂

ইনক্রিপশন (Encryption) কি? ইনক্রিপশন যেভাবে ইনক্রিপশন কাজ করে

বন্ধুরা, এই আধুনিক কম্পিউটিং এবং ইন্টারনেট এর যুগে ইনক্রিপশন এর কথা আপনি নিশ্চয় শুনে থাকবেন।
সেটা আপনার ডাটা গুলোকে নিরাপদ করতে হোক আর জিমেইল, টুইটার, ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সিকিউর করতে হোক আর ড্রপ বক্স বা ওয়ান ড্রাইভের সেভ করা
ডাটা সিকিউর করতে হোক কিংবা আপনার ফোনের বাক্তিগত ম্যাসেজ গুলো সিকিউর করতে হোক, ইনক্রিপশন কিন্তু প্রত্যেক ক্ষেত্রেই অতি প্রয়োজনীয়।
আজকের এই টিউনে এই ইনক্রিপশন কি? এবং এটি কীভাবে কাজ করে তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি।
আশা করি অনেক কিছু জানতে পারবেন।

ইনক্রিপশন (Encryption) কি?

ইনক্রিপশন (2)

আরো পড়ুনঃ- নেটওয়ার্কিং বিস্তারিত! ইন্টারনেট কি? চলুন দেখে আসি যেভাবে কম্পিউটার ইন্টারনেট কাজ করে!
সেলফোন বিস্তারিত! ওয়্যারলেস কি? চলুন দেখে আসি যেভাবে সেলফোন এর কল সম্পূর্ণ হয়
           ডিজিটাল এবং অ্যানালগ প্রযুক্তি কি? ডিজিটাল প্রযুক্তি বৃত্তান্ত! মেগা টিউন
পিসি কি স্লো কাজ করছে? বাড়িয়ে নিন আপনার পিসি পারফর্মেন্স সহজ সমাধান
দেখুন ইনক্রিপশন কোন নতুন জিনিস নয়। এমনটা নয় যে আমরা কেবল এই পদ্ধতি ২-৩ বছর আগ থেকে ব্যবহার করছি।
আমরা অনেক সাল আগে থেকেই এটি ব্যবহার করে আসছি।
ইনক্রিপশন হচ্ছে এমন এক পদ্ধতি যার মাধ্যমে আপনি যখন কোন ডাটা কাওকে পাঠানোর জন্য বা কোথায় লিখে রাখার জন্য বা স্টোর করার জন্য তৈরি করবেন
তখন তা এমন একটি অবস্থায় বা এমন একটি ফর্মে থাকবে যাতে ডাটাটি আপনি শুধু যাকে পাঠানোর জন্য তৈরি করেছেন, যেন সেই শুধু তা অ্যাক্সেস করতে পারে।
এবং ভুল করে যদি কোন অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছে চলেও যায় তবে সে ডাটাটির কোন মতলব না বের করতে পারে।
এই হচ্ছে Encryption এর মূল মন্ত্র। চলুন একটি উদাহরনের মাধ্যমে বিষয়টিকে আরো পরিষ্কার করা যাক।
মনে করুন একটি সাধারন Encryption তৈরি করার জন্য আমি “A,B,C,D” থেকে “Z” পর্যন্ত “A” কে লিখব “B” হিসেবে, “B” কে লিখব “C” হিসেবে এবং “C” কে
লিখব D হিসেবে। এভাবেই আমি যে শব্দটি আসলে লিখতে চাচ্ছি তার সামনের অক্ষর ব্যবহার করে লিখব।
এখন মনে করুন আমি লিখতে চাচ্ছি (“ZUGTECH”), এখন উপরের নিয়ম অনুসারে Encryption করার পরে শব্দটি হবে
(“EnCt26a2d76b90c0343a2f5314a4f67f9d5b09e6f306c6a2d76b90c0343a2f5314a4fNgcIdb19/gB
60qoEo1d6GrIyPXMZIwEmS”)।
এখন Encryption করার পরে যে কোড তৈরি হলো, যদি কারো এটা না জানা থাকে যে আমি Encryption করার জন্য একটি করে সামনের শব্দ ব্যবহার করেছি, তবে
এর ভেতর লুকিয়ে থাকা আসল শব্দটি বের করা সম্ভব হবে না। এবং কেউ একে ডি-কোড করতে পারবেনা।
তো এতো ছিল একদম সাধারন ইনক্রিপশন এর কথা।
এখন এই Encryption থেকে যদি আপনার আবার আসল ডাটা বের করার প্রয়োজন হয় তবে “কী (Key)” কি হবে? Key এটা হবে যে, যা লিখা আছে তার চেয়ে একটি
অক্ষর কম করতে হবে।
যেমনঃ কোডে লেখা আছে “U” তবে সেখান থেকে একটি অক্ষর কম করে দিলে বা পিছে আসলে হবে “T” এভাবেই “F” থেকে আসবে “E” ইত্যাদি করে সাজাতে
থাকলে অবশেষে আসল শব্দটি পাওয়া সম্ভব।
এখন এই শব্দটি আমি যদি কাওকে পাঠিয়ে দেই এবং সেই ব্যক্তিটির কাছে যদি শব্দটির সঠিক Key থাকে তবে সে অনেক সহজেই এই শব্দটি পড়তে সক্ষম হবে।
তো এই হচ্ছে একটি সাধারন Encryption এবং তার Key এর ধারণা।
Encryption আমরা অনেক দিন যাবত ব্যবহার করে আসছি।
যেমনটা ধরুন পুরাতন বিশ্ব যুদ্ধের কথা, তখন বিভিন্ন Encryption এর মাধ্যমে বিভিন্ন সিক্রেট ম্যাসেজ পাঠানো হতো।
কিন্তু কম্পিউটার এর দুনিয়ায় Encryption করার পদ্ধতি সামান্য একটু আলদা, কিন্তু বিষয় বস্তু একই।

পাবলিক কী (Key) ইনক্রিপশন

ইনক্রিপশন (1)

এখন কথা বলি পাবলিক কী (Key) ইনক্রিপশন (Encryption) সম্পর্কে।
এই পদ্ধতি একদম কমন। এবং বেশির ভাগ Encryption এর ক্ষেত্রেই, সেটা ইমেইল হোক বা সাধারন ম্যাসেজ হোক কিংবা হোয়াটস অ্যাপ Encryption হোক,
পাবলিক কী (Key) Encryption ব্যবহার করা হয়।
এখন এই পাবলিক কী (Key) ইনক্রিপশন কি? মনে করুন আমি একজন ইউজার এবং আপনি একজন ইউজার।
আমাদের প্রত্যেকের কাছে দুইটি করে কী (Key) থাকে। সেক্ষেত্রে আমার কাছেও দুইটি কী (Key) রয়েছে।
একটি হলো প্রাইভেট কী (Key), যেটা শুধু আমার কাছে আছে এবং আরেকটি হলো আমার পাবলিক কী (Key), যেটা প্রত্যেকের কাছে থাকবে।
এবং এখই জিনিস আপনার কাছেও থাকবে।
একটি থাকবে প্রাইভেট কী (Key), যেটা শুধু আপনার কাছে থাকবে এবং আরেকটি থাকবে পাবলিক কী (Key), যেটা সকলের কাছে থাকবে।
এখন আবার এক প্রশ্ন, পাবলিক কী (Key) বা প্রাইভেট কী (Key) কি? দেখুন প্রাইভেট অথবা পাবলিক শব্দের অর্থ তো জানাই আছে।
এখানে কী (Key) অর্থ হলো একটি ইনক্রিপটেড ডাটা ডি-কোড করার ফর্মুলা এই কী (Key) তে থাকে।
অর্থাৎ কী (Key) তে বর্ণিত থাকে যে কীভাবে একটি ম্যাসেজকে অরিজিনাল ম্যাসেজে পরিনিত করা যায়।
এখন চলুন পাবলিক কী (Key) এবং প্রাইভেট কী (Key) সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জেনে নেওয়া যাক।
মনে করুন আপনি কোন ম্যাসেজকে পাবলিক কী (Key) ব্যবহার করে লক করে ফেললেন।
তো সেই ম্যাসেজ শুধু মাত্র প্রাইভেট কী (Key) দ্বারাই ওপেন করা সম্ভব।
আবার যদি আপনি কোন ম্যাসেজকে প্রাইভেট কী (Key) দ্বারা লক করেন তবে সেটি শুধু মাত্র পাবলিক কী (Key) ব্যবহার করেই ওপেন করা সম্ভব।
আরো বিস্তারিত বোঝার আগে এই ফর্মুলা মাথার ভেতর ভালোভাবে ঢুকিয়ে নিন।
এখন মনে করুন আমার আরেকজন ইউজারকে একটি ম্যাসেজ লিখে পাঠাতে হবে “হ্যালো”।
তো আমি কি করবো, আরেকজন ইউজার এর যে পাবলিক কী (Key) আছে, (যেটা সবার কাছে থাকে) সেই পাবলিক কী (Key) দিয়ে আমার ম্যাসেজ “হ্যালো” কে
ইনক্রিপটেড করে তার কাছে পাঠিয়ে দেবো।
সে ইউজার শুধু মাত্র তার প্রাইভেট কী (Key) ব্যবহার করেই আমার পাঠানো ম্যাসেজটি ওপেন করতে সক্ষম হবে।
এর মাঝে যদি কেও ম্যাসেজটি পেয়েও যায়, তবুও সে তা ওপেন করতে পারবেনা।
ঠিক এইভাবেই এই ম্যাসেজটিকে যদি আমি আরেকটু সিকিউর করতে চাই এবং আমি যদি এটা নিশ্চিত করাতে চাই যে ম্যাসেজটি আমিই পাঠিয়েছি তবে (কেনোনা
পাবলিক কী সকলের কাছে থাকে, এটা ব্যবহার করে যে কেউই ম্যাসেজ পাঠাতে পারে), প্রথমে আমি যে ইউজারকে ম্যাসেজটি পাঠাতে চাই তার পাবলিক কী (Key)
দিয়ে ম্যাসেজটিকে লক করবো তারপর দ্বিতীয়বার আমার প্রাইভেট কী (Key) দিয়ে ম্যাসেজটি লক করবো।
যখন ম্যাসেজটি ঐ ইউজারের কাছে চলে যাবে তখন সে দেখবে যে ”  ওহ এই ম্যাসেজ তো প্রাইভেট কী দ্বারা লক করা ” তখন সে তার কাছে থাকা আমার পাবলিক
কী ব্যবহার করে প্রথমে ম্যাসেজটিকে আনলক করবে এবং পরে তার নিজের প্রাইভেট কী ব্যবহার করে ম্যাসেজটিকে সম্পূর্ণ আনলক করবে।
বন্ধুরা বিষয় বস্তুটি সামান্য একটু ঝামেলার কিন্তু আশা করি এই প্যারাগ্রাফটি ২-৩ বার পরলে সকল বিষয় বস্তু পানির মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে।
অর্থাৎ, পাবলিক কী (Key) ইনক্রিপশন প্রাইভেট কী (Key) দ্বারা এবং প্রাইভেট কী (Key) ইনক্রিপশন পাবলিক কী (Key) দ্বারা ডিক্রিপ্ট করা সম্ভব।
এবং এটি এই ফর্মুলার উপরই কাজ করে।
এই কী ফর্মুলা মূলত কোন ডাটা ট্র্যান্সমিশন করার ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়।
যেমন ধরুন, আপনি কোন অ্যাকাউন্ট লগইন করলেন বা কাওকে লাগাতার ম্যাসেজ পাঠাচ্ছেন, ইত্যাদি সময়ে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে আপনার ডাটা সিকিউর করা হয়।
ইনক্রিপশন (2)

পাবলিক কী রহস্য

কিন্তু যে ডাটা গুলো আগে থেকেই স্টোর করা থাকে সেগুলোকে কীভাবে সিকিউর করা হয়?
যেমন ধরুন আপনি গুগল ড্রাইভ বা ড্রপবক্সে অনেক ফটোস আপলোড করে রেখেছেন কিংবা আপনার ক্রেডিটকার্ড ইনফর্মেশন সেভ হয়ে আছে বিভিন্ন
ওয়েবসাইটে। তো এই সকল ডাটা সিকিউর করার জন্য হ্যাস-টেবিল নামক পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া হয়।
এখন এই হ্যাস টেবিল কি? যেমন ধরুন আমার নাম “তাহমিদ বোরহান”।
এখন বিভিন্ন ওয়েবসাইটে আমার নাম সেভ করা আছে। কিন্তু হ্যাস টেবিল পদ্ধতি ব্যবহার করে সেভ করা থাকলে আমার নামটি সরাসরি “তাহমিদ বোরহান” নামে
সেভ করা থাকবে না। বরং একসাথে অনেকগুলো টেক্সট এর সাথে জগাখিচুড়ি পাকিয়ে এক অন্য অর্থে সেভ করা থাকবে।
এবং এর রিকভারি আবার একটি কী (Key) দ্বারায় করা সম্ভব। আর এর কী (Key) শুধুমাত্র ঐ ওয়েবসাইট টির কাছেই থাকে।
তো সাধারন ভাবে এই ডাটা গুলো ডি-কোড করা এক প্রকার অসম্ভব। কিন্তু তারপরেও এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে ইম্পসিবল বলে কিছু নেই।
এক্সপার্টসরা সবসময় লেগে থাকে কীভাবে যেকোনো জায়গা থেকে যেকোনো তথ্য হাতিয়ে নেওয়া যায় তা নিয়ে।
তো দুই দিকেই মোটামুটি একটি দৌড় লেগে থাকে, যারা সিকিউরিটি এক্সপার্ট তারা ডাটা গুলোকে আরো সেফ করার কথা চিন্তা করে আর যারা ডি-কোড এক্সপার্ট
তারা সবসময় ইনক্রিপশন এর ভুল ত্রুটি খোঁজার চেষ্টা করে।
সাধারন ভাবে বলতে গেলে ইনক্রিপশন এর এই ফর্মুলা গুলোয় বেশি ব্যবহার করা হয়।
কিন্তু বেশির ভাগ ইনক্রিপশন করার সময়ই পাবলিক কী (Key) Encryption
ফর্মুলা ব্যবহার করা হয়। এমনকি সাম্প্রতিক হোয়াটস অ্যাপ এর যে এন্ড টু এন্ড (end-to-end) Encryption পদ্ধতি বের করা হয়েছে তাও একটি পাবলিক কী (Key)
Encryption। যেখানে প্রত্যেকটি ইউজার এর কাছে দুইটি করে কী থাকে, যেখানে পাবলিক কী (Key) সবার জন্য এবং প্রাইভেট কী (Key) নিজের জন্য। পাবলিক কী
(Key) ব্যবহার করে কিছু লক করলে তা শুধু খুলবে নিজের প্রাইভেট কী (Key) দিয়ে এবং প্রাইভেট কী (Key) ব্যবহার করে কিছু লক করলে তা শুধু খুলবে পাবলিক কী
(Key) দিয়ে।

শেষ কথা

আশা করি আজকের এই টিউন টি আপনাদের শুধু ভালো নয়, বেশ ভালো লেগেছে।
এবং ইনক্রিপশন সম্পর্কে সহজ বাংলা ভাষায় আপনি অনেক কিছু জানতে পেরেছেন।
যদিও আরো বিশদ আলোচনা করা যেতো।
তবে আমার মনে হয় এই আলোচনার মাধ্যমেই সকল বেসিক বিষয় বস্তু আপনি জানতে পেরে গেছেন।
ইনক্রিপশন নিয়ে যেকোনো প্রশ্ন আপনি আমাকে টিউমেন্টে জানাতে পারেন।
যেহুতু আজ এতো গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম তাই মনে করছি বেশি বেশি শেয়ার হওয়াটা আমার প্রাপ্য।
তাই যতো পারেন শেয়ার করুন।
আপনারা হয়তো জানেন ইন্টারনেট এবং গুগলে অবস্থান করা ৯৫% এর ও বেশি কনটেন্ট ইংরেজি ভাষায় হয়ে থাকে।
আর সেখানে বাংলা কনটেন্ট তৈরি করে জনপ্রিয়তা পাওয়াটা অনেক কষ্টের এবং পরিশ্রমের।
আপনার এক একটি  শেয়ার করার উদ্যোগ এই সাইট টিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। যাই হোক, সকলেই ভালো থাকুন।

আসুন বিদেশী বিজ্ঞানীদের নয়, জানি দেশী বিজ্ঞানীদের।

=> ফিঙ্গারপ্রিন্টিং এর আবিষ্কারক – কাজি
আজিজুল হক (১৮৭২-১৯৩৫)। বাড়ি খুলনার ফুলতলী।
.
=> প্রফুল্ল চন্দ্র রায় (১৮৬১-১৯৪৪) – রসায়নবিদ,
মারকুরিয়াস নাইট্রাইটের আবিষ্কারক। বাড়ি
খুলনা।
.
=> জগদীশ চন্দ্র বসু (১৮৫৮-১৯৩৭) – বেতার বা
রেডিওর
আসল আবিষ্কারক, গাছের প্রাণের ব্যাপারে বড় বড়
সব
আবিষ্কার করেছেন, বাড়ি মুন্সিগঞ্জের
বিক্রমপুর।
.
=> প্রশান্ত চন্দ্র মহলানবিশ (১৮৯৩-১৯৭২) –
পরিসংখ্যানে বহুল
ব্যবহৃত “মহলানবিশ ডিসট্যান্সের” আবিষ্কারক,
ইন্ডিয়ান ইন্স্টিটিউট
অফ স্ট্যাটিস্টিক্স এর প্রতিষ্ঠাতা, বাড়ি
মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুর।
.
=> জামাল নজরুল ইসলাম (১৯৩৯-২০১৩),
এস্ট্রোফিজিসিস্ট, বাড়ি
ঝিনাইদহ।
.
=> মেঘনাদ সাহা (১৮৯৩-১৯৫৬),
পদার্থবিজ্ঞানের থার্মাল
আয়নাইজেশনের সাহা ইকুয়েশনের আবিষ্কারক,
বাড়ি ঢাকার
শেওড়াতলী।
.
=> অমল কুমার রায়চৌধুরী (১৯২৩-২০০৫),
পদার্থবিজ্ঞানের
আপেক্ষিক তত্ত্ব ও কসমোলজিতে
বহুল ব্যবহৃত রায়চৌধুরী ইকুয়েশনের আবিষ্কারক,
বাড়ি
বরিশাল।
.
=> মোহাম্মদ আতাউল করিম (১৯৫৩-), অপটিকাল
ফিজিক্সের সেরা ৫০ জন বিজ্ঞানীর একজন, বাড়ি
সিলেট।
.
=> সত্যেন্দ্রনাথ বসু (১৮৯৪-১৯৭৪),
পদার্থবিজ্ঞানের
বর্তমানে বহুল আলোচিত বোসন কণিকার নাম তাঁর
নামানুসারে, তিনি আইনস্টাইনের সাথে মিলে
বোস-
আইনস্টাইন স্ট্যাটিস্টিক্স তত্ত্বের প্রণেতা।
বাড়ি
কোলকাতা হলেও তাঁর ক্যারিয়ার আর এই আবিষ্কার
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগেই
হয়েছে।
.
=> আবুল হুসাম, আর্সেনিক দূরীকরণের জন্যসনো
ফিল্টারের উদ্ভাবক, বাড়ি কুষ্টিয়া।
.
=> মাকসুদুল আলম, পেঁপে, রাবার ও পাটের জিনোম
সিকোয়েন্সিং করেছেন, বাড়ি ফরিদপুর।
.
=> শুভ রায়, কৃত্রিম কিডনির উদ্ভাবক, বাড়ি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি।
.
=> ফজলুর রহমান খান (১৯২৯-১৯৮২), বহুদিন ধরে
বিশ্বের উচু
ভবন সিয়ার্স টাওয়ার ও জন হ্যানকক
টাওয়ারের ডিজাইনার, বহুতল ভবন নির্মানের নতুন
পদ্ধতির উদ্ভাবক, বাড়ি ঢাকা।

অন্ধকার বলতে কি কোন কিছু আছে?? বিজ্ঞান কি বলে? বিস্তারিত জেনে নিন

নাহ মোটেই নাই।
কি আমাকে পাগল মনে হচ্ছে?
ঠিক আছে আসুন দেখি ফিজিক্স কি বলে এই বিষয়টা নিয়ে।
এই টিউনটা বোঝার জন্য আপনাকে প্রথমে জানতে হবে দেখার সংজ্ঞা। ইংরেজিতে এটাকে বলে Look। এই শব্দটা এসছে আর একটা শব্দ Lagud থেকে। এর মানে হচ্ছে মানুষের চোখ। মোটামুটি দেখার সংজ্ঞা হচ্ছে যখন কোন বস্তুর উপরে পতিত আলোর কনাগুলো ফেরত এসে আমাদের চোখে আঘাত হানে তখনই সেটা আমরা দেখতে পাই।
এবার প্রশ্ন হচ্ছে এই আলোর কনাগুলো কি??

আমদে চোখে যে আলোটা এসে পরে এটা আসলে মহাবিশ্বে থাকা বিশাল একটা ইলেকট্রোম্যাগনেটিক রেডিয়েশন এর ক্ষুদ্রতম অংশ। এই ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়শন এর অনেক অনেক ধরনের আলো আছে। এই ইলেকট্রো ম্যাগনেটিক রেডিয়েশন খবুই মারাত্মক হতে পারে আবার কোমলও হতে পারে। এই জিনিষটা একটা নির্দিস্ট ওয়েভ বা ঢেউয়ের মতন চলে। সেই ঢেউটির কিছু নির্দিস্ট প্যাটার্ন থাকে।
আর এখানেই হচ্ছে সমস্যাটা। আমরা কিন্তু সবকিছু দেখতে পাই না। আরো ভালো ভাবে বলতে গেলে আমরা আসলে কোন কিছুই দেখতে পাই না। কারন আমদের চোখের লিমিটেশন শুধু ওই বিশাল রেডিয়েশনের একটা অল্প অংশের মধ্যেই সিমাবদ্ধ। আরো ভালো করে বোঝার জন্য রেডিও ল্যাব নামক নিচের ওয়েবসাইটটাতে যেতে পারেন। এটা একটা সাইন্টিফিক ওয়েবসাইট।
রেডিও ল্যাব
এখানে দেখতে পারেন আমরা যেই জিনিষগুলো আমাদের চোখে দেখি সেগুলো অন্য কোন প্রানির চোখে দেখতে কেমন। যেমন আমরা একটা পাখিকে যেভাবে অনেকগুলো রঙের সমন্বয়ে রঙিন দেখি কিন্তু একটা বিড়াল কিন্তু সেভাবে দেখে না। কারন তার সেই কোষগুলো নেই যেগুলো আমাদের আছে। কিন্তু তার বদলে তার আছে আলাদা কিছু কোষ যেগুলো তাকে রাতে দেখতে সাহায্য করে।
আমরা যখন কোন কিছু দেখার কথা বলি তখন সেটা হচ্ছে চোখের Visual perception। এই জিনিষটা একটু জটিল জিনিষ। বুঝিয়ে বলছি। মনে করেন আলো তার সোর্স (সুর্য, লাইট বাল্ব) থেকে উৎপন্ন হয়ে একটা পাখির উপরে পরে, সেটা আবার বাউন্স করে ক্যামেরার মাধ্যমে আমাদের চোখের মধ্যে দিয়ে প্রতিবিম্ব হয়, সেই প্রতিবিম্ব আবার আমাদের চোখের কোষগুলো মাথার ভিতরে থাকা নিউরন কোষের মধ্যে ট্রান্সফার করে। তার পরে মস্তিস্ক আমাদেরকে বলে দেয় এটা আসলে একটা পাখি। তার পরে সেই মস্তিস্কই আমাদেরকে আবার মাথার মধ্যে থাকা পাখিদের অন্যান্য ছবি গুলোরে রিপ্লে করাইয়া তার কথা মনে করাইয়া দেয়। এভাবেই সবকিছু হয়ে যায় আরকি।
আলোর আবার আরো কিছু বিষয় আছে। এক একটা আলো এক একটা ওয়েভ বা ঢেউ এর মতন করে আসে। একট নির্দিস্ট ওয়েভের আলোই আমরা শুধু দেখতে পাই। বাকি গুলো মোটেই পাই না। যেমন আল্ট্রাভায়োলেট রশ্মি, এক্স-রে, গামা রে সহ অনেক অনেক ধরনের আলোক রশ্মি আছে যা আমাদের এই সাধারন চোখের মধ্যে মোটেই ধরে না। এরকম ওয়েভ বা ঢেউ এর সিস্টেমে এর কোন শেষ নেই যার মধ্যে আমরা শুধু অল্প একটুই দেখতে পাই। এখন একটা মানুষের খুলির মধ্যে ঘিলু আছে নাকি গোবর আছে সেটা দেখা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। কিন্তু যদি আমাদের চোখে এক্সরে সংবেদনশিল থাকতো তবে আমরা সেই মানুষটার সবকিছুই দেখতে পেতাম। হয়ত এই ধরনের কোন কিছু যদি সত্যিই আমাদের চোখে থাকতো তবে আমাদের আর কোপর চোপর পরার প্রয়োজন পরতো না। কারন কাপর পরলেও সব দেখতে পেতাম না পরলেও সবকিছু দেখতে পেতাম।

খুবই মারাত্মক বিষয় হচ্ছে কিছু কিছু ওয়েভ আছে বা আলোক রশ্মি আছে যেগুলো আমাদেরকে কয়েক সেকেন্ট এর মধ্যে ভস্ম করে দেবে। যেমন আপনার বাসায় বা হোটেলে যে মাইক্রোয়েভ কুকার আছে এটিও একটা আলোর ওয়েভ যা দিয়ে রান্না করা হয় বা খাবার গরম করা হয়। চিন্তা করেন সামান্য খাবার গরম করতে পারে যে সে কি আপনাকে গরম করতে পারবে না?? কিন্তু আপনি কি দেখতে পান সেই আলোটা। মোটেই না।
উপরের ছবিটার দিকে তাকালে বুঝতে পারবেন আপনার মানে মানুষ্য প্রজাতির দেখার সিমাবদ্ধতা কত কম। উপরের পুরো কা
লো ব্যাজটা যদি আপনি আলোর বিভিন্ন মাইক্রোওয়েভ লিংক ধরেন তবে ছোট ওই অংশটুকুনই হচ্ছে আমাদের চোখের কাছে দৃশ্যমান। বাকিগুলো আমাদের চোখের দৃস্টিসিমার সাধ্যের বাইরে। এই পুরো সৃস্টিজগতের লক্ষাধিক ভাগের একভাগও আমরা ভালো করে খালি চোখে দেখতে পা্ই না। আলোর ওয়েভের এধরনের একটা প্যাটার্ন তৈরি করেছিল আমেরিকান এক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক রা। তারে বলেছিলেন সেটার দৈর্ঘ হবে কয়েক হাজার কিলোমিটার। আর আমরা সেটাতে দেখতে পাব একটা সুইয়ের অংশ। আর আমরা সেই সামান্য টা দিয়েই তুলকালাম কান্ড ঘটাইয়া ফেলি।
কি বিশ্বাস হচ্ছে না আমার কথা। ওকে বাদ দেন এত কঠিন কথা বার্তা। আপনি আপনার বাসার টিভির রিমোট কন্ট্রোল টা হাতে নেন। খেয়াল করেন ঠিক উপরে একটা ছোট লাইটের মতন আছে। আপনি সাধারনত যখন টিভির চ্যানেল চেঞ্জ করেন সেটা জলে উঠার কথা কিন্তু সেটা হয় না। তার মানে কি এটা জ্বলে না?? অবশ্যই জলে। আপনি আপনার মোবাইলটা নিয়ে ক্যামেরা অন করুন। তার পরে সেই রিমোর্ট কন্ট্রোলটার উপরে ধরে কন্ট্রোলের যেকোন একটা বাটনে ক্লিক করুন। দেখবেন জ্বলে উঠেছে। অথচ আপনি খালি চোখে সেটা দেখতে পারছেন না। কারন আপনার মোবাইলের ক্যামেরার লেন্সগুলো যারা সৃস্টি করেছে তারা ওই আলোর ওয়েভগুলো ক্যাচ করার সিস্টেম দিয়ে দিয়েছে। কিন্তু আপনাকে যিনি সৃস্টি করেছেন তিনি এগুলোর কিছুই আপনাকে দেননি।
http://www.chromoscope.net/
আমরা রাতে আকাশে তাকালে শুধু অন্ধকার আর কিছু উজ্জল তারাগুলেই দেখতে পাই। কিন্তু আসলে এর থেকেও অনেক অনেক কিছু আছে। আমি উপরে দেয়া ওয়েবসাইটতাে ঢুকে হতবাক হয়ে গিয়েছি। তারা পুরো মহাবিশ্বের একটা ছোট অংশকে আমাদের চোখের দৃশ্যতা ছারাও প্রায় ৭ টা আলোর ওয়েভে দিখিয়েছেন সেগুলো দেখতে কেমন। যেমন আপনি এক্সরেতে গেলে দেখতে পাবেন এক্সরেতে আকশটা দেখতে কেমন লাগে। আবার যদি নিচের দিকে হাইড্রোজেন আলফা ওয়েভে যান দেখবেন সেটা কিভাবে অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে। আবার গামা রেতে দেখতে পারেন। খুবই মজা পাইছি আমি দেখে। আপনিও দেখতে পারেন। তবে এগুলো একচুয়ালি আমাদের চোখের দেখার কথা না। বিজ্ঞানিরা এতে আমদের চোখের উপযোগি করে রঙ মিশিয়ে দেখিয়েছেন কেমন হতে পারে।

এখন আসি আমাদের পৃথিবী কে নিয়ে। ভালো করে খেয়াল করুন উপরের ছবিতে অনেকগুলো ছবি দেয়া আছে যার সবগুলোই পৃথিবীর। কিন্তু এর একটাই আমরা চিনি। কারন সেটাই আমরা খালি চোখে দেখতে পাই। বাকিগুলো অন্যান্য আলোর ওয়েভের মধে দিয়ে কালার করে দেখলে এভাবে দেখা যাবে।

যেমন উপরের ছবিটা পৃথিবীরই তবে এটি ইনফ্রারেড ওয়েভের মধ্যে দিয়ে দেখা গেছে। পুরো পৃথিবীর অভ্যান্তরে যে কি পরিমান গরম সেটা শুধু মাত্র এই ছবিটার দিকে তাকালেই আন্দাজ করতে পারবেন।

এই ছবিটা আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মি দ্বারা দেখা হয়েছে। কিন্তু বিজ্ঞানিরা এখনো শিউর না এটা আসলে কি জিনিস দেখাচ্ছে।

এক্সরে দিয়ে তোলা ছবিটা খেয়াল করুন এখানে আমাদের মেরু অঞ্চলের অত্যান্ত উচ্চ ম্যাগনেটিক বা চুম্বক শক্তিটা দেখাচ্ছে।

এটা গামা রেডিয়েশন দিয়ে তোলা ছবি। এটাতে দেখা যাচ্ছে পৃথিবীর চার পাশে একটা সাধা স্তর। আসলে এটা বুঝাচ্ছে কিভাবে পৃথিবীর চার পাশে থাকা ওজন স্তরটি আমাদের কে মহাবিশ্ব থেকে আশা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন গামা রে গুলোথেকে রক্ষা করছে।

এবার আসি মারাত্মক কিছু বিষয় নিয়ে কথা বার্তা বলতে। আমরা অনেকেই বিশ্বাস করি না। আমাদের ধারনা আমরা যা দেখি এর বাইরে আসলে এই পৃথিবীতে আরো কিছুই নাই। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবে আপনাদের সেই ধারনা একেবারে ভুল।

এখন যদি এমন কোন প্রানি বা বস্তু থেকে থাকে যেটা শুধু মাত্র এক্সরে ওয়েভে দেখা যাবে। সেটা তাহলে আমাদের এই সাধারন চোখে মোটেই ধরার পরবে না। এমনকি সেই নির্দিস্ট ক্যামেরাতে আপনি ভালো ভাবে দেখতে পাবেন না। কারন এক্সরে ক্যামেরাতে আমরা যা দেখি সেটাতে হালকা রং করা থাকে। আর রং করা মানে জিনিষটার আসল চেহারা আপনার চোখে অধরাই থেকে যাবে।

যদি আপনি বলেন ভুত, জীন বা অন্যকোন জিনিষ আছে। তবে সেটার একটা বৈজ্ঞানিক এক্সপ্লেনেশন হতে পারে তাদের দৃশ্যতা আমাদের চোখের সিমার মধ্যে নাই। তবে নিশ্চৎ ভাবে ধরে রাখেন এই মহাবিশ্বে অসংখ জিনিষ আছে যেগুলো আমাদের এই সাধারন চোখের দেখার কোন সাধ্য নাই। তা আপনি যত ক্যামেরা আর রঙচঙই লাগিয়ে দেখতে চান না কেন। বিজ্ঞানিরা এই বিষয়গুলো নিয়ে এখনো প্রচুর গবেষনা করছেন যাতে আমাদের দৃশ্যতার সিমাকে আরো বিস্তৃত করা যায়।

এবার তো বুঝতে পারছেন কেন আমি বলেছি রাতের আকাশে বা দিনের বেলা অন্ধকার বলতে কিছু নাই। অন্ধকার বলতে কোন কিছুই সৃস্টিই হয় নি। শুধু মাত্র আপনার চোখের মধ্যে ওই আলোটুকু ধরার কোন ক্ষমতা নাই বলেই আপনি দেখতে পাচ্ছেন না। তাই নিজের চোখ নিয়ে এতটা বড়াই কইরেন না। অদেখা জিনিষ দেখার ক্ষমতা আপনাকে দেয়া হয় নি। যত বড়াই করবেন ততই নিজেকে ছোট করবেন এই বিশ্বভ্রম্মান্ডে কাছে। এমনিতেই আপনি এই বিশ্বভ্রম্মান্ডের মধ্যে অত্তন্তক্ষদ্র একটা জিনিষ। তাই নিজেকে আর ছোট করবেন না।
এই লেখাটা আামর পৃথিবীর মানচিত্র নিয়ে লেখার প্রথম পর্ব। এর পরের পর্বের বিষয় থাকবে আমরা যে মানচিত্র দেখছি সেটা একেবারে পুরোটাই ভুল। কিন্তু কেন সেই ভুলটাই আমরা সঠিক বলে ধরে নিচ্ছি। এবং বিজ্ঞানিরাও সেটাকে সঠিক বলছেন। আমার সাথেই থাকুন একই সাথে আমরা শিখবো বিজ্ঞানের অজানা বিষয়গুলো অসাধারন মজা করে।
বরাবরে মতনই লেখাটার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি ইউটিউবের বিখ্যাত চ্যানেল ভি-সোস এর মাইকেলেকে। তার ব্যাখ্যা করার ক্ষমতা অসাধারন। আসি সেটাকেই কাজে লাগিয়েছি।

ঘূর্ণিঝড় কেন হয়?

বাংলাদেশ অত্যন্ত দুর্ভাগা একটি একটি দেশ। তার অবস্থানগত কারণে, সমতল আর নিচু ভূমি তার সাথে সাথে ঘনবসতির কারণে খুব সহজেই নানা সামুদ্রিক ঝড় বাংলাদেশকে কাবু করে ফেলতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ের মূল কারনটা আসলে সমুদ্র। সাথে সাথে তো অবশ্যই স্থলভাগ আছে। আরও আছে সূর্য, বায়ুমণ্ডল, বায়ুমণ্ডলের ঘনত্বের তারতম্য, তাপমাত্রা, তাপমাত্রার হেরফের প্রভৃতি।
গ্রীষ্মকালে সূর্যের তাপ খাড়াভাবে পৃথিবীর উপর(বিষুব রেখা বরাবর) পড়ে। তাতে করে ঐ এলাকার বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা যায় বেড়ে। আর তাপমাত্রা বেড়ে গরম হয়ে যাওয়া বায়ু অন্য বায়ুর তুলনায় হয়ে যায় হালকা। তুলনামূলকভাবে ভারী বায়ুগুলোকে নিচে রেখে হালকা বায়ু গুলো উঠে যায় উপরে। এতে করে নিচের বায়ুমণ্ডলের বায়ুর চাপ যায় কমে। আশেপাশের এলাকার বায়ুর সাথে দেখা দেয় চাপের তারতম্য। আর এই দুই এলাকার চাপ সমান করতে সমুদ্র থেকে প্রবল বেগে ছুটে আসে বাতাস। আর সেই প্রবল বেগে ছুটে আসা বাতাসকেই আমরা বলি ঘূর্ণিঝড়।

তো এই যে গ্রীষ্মকালে সূর্যের তাপে বাতাস গরম হয়ে উপরের দিকে উঠে যায় সেটা কিন্তু সমুদ্রে নয়, স্থলভাগে। ডাঙ্গায়। তো সমুদ্র?সমুদ্রে গ্রীষ্মকাল নাই? সেখানে কি খাড়াভাবে সূর্যের আলো পড়ে না? সমুদ্রেও সূর্যের আলো পড়ে। সেখানকার বায়ুমণ্ডলও গরম হয়। তবে স্থলভাগের তুলনায় খুব অল্প। কেন? সমুদ্র আর স্থল এক জিনিস না। স্থলে আছে মাটি আর সমুদ্রে আছে পানি। সারা পৃথিবীর সব মাটির তুলনায় তিন গুন পানি আছে সমুদ্রে। আর সেই পানির রয়েছে একটি আশ্চর্য গুন। তা হল তাপকে ধরে রাখার ক্ষমতা। পৃথিবীর সকল জিনিসের চেয়ে পানি তাপ ধরে রাখতে পারে অনেক বেশি। সহজ কথায় পানিকে উত্তপ্ত করতেও সময় লাগে সবচেয়ে বেশি, আর তেমনি উত্তপ্ত পানিকে ঠাণ্ডা করতেও সময় লাগে বেশি। এক কেজি পানিকে তাপ দিয়ে তাপমাত্রা যে পরিমাণ বাড়ানো যায় ঠিক একই পরিমাণ তাপ লোহার উপর দিলে লোহার তাপমাত্রা পানির তুলনায় দশ গুন বৃদ্ধি পাবে। টিনের বেলায় বাড়বে বিশ গুন। সিসার বেলায় তিরিশ গুন।
পানির আরও একটা বিরাট গুন আছে। এক’শ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রায় পানি বাষ্পীভূত হয় আবার এক’শ ডিগ্রী সেলসিয়াসেই পানি থাকে তরল অবস্থায়। এই একশ ডিগ্রী পানি থেকে বাষ্পে পরিণত হবার সময় প্রচুর তাপ শোষণ করে নেয়। শূণ্য ডিগ্রী সেলসিয়াসের পানি একশ ডিগ্রীতে পৌছাতে যে পরিমাণ তাপ শুষে নেয় একশ ডিগ্রী থেকে বাষ্পে পরিণত হতে তাপ শুষে নেয় তার থেকে পাঁচ গুনেরও বেশি।পানির আরও একটি গুন হল তার নড়াচড়া করার ক্ষমতা। সূর্যের তাপে উপরিভাগের পানি যখন গরম হয়ে যায় তখন সে পানি নড়েচড়ে গিয়ে নিচের দিকে বা আশপাশের পানির মাঝে তাপ ছড়িয়ে দিতে পারে। বিশাল, গভীর সমুদ্রের ব্যাপক পানির তাপধারণ ক্ষমতা প্রায় অসীম। অপরদিকে স্থল বা ডাঙ্গা নড়াচড়া করতে পারে না, তাই তাপ ও ছড়িয়ে দিতে পারে না।
দেখা যায় পানির তাপ ধরে রাখে প্রচুর কিন্তু তাপমাত্রা বাড়ে সামান্য। আর স্থলভাগের তাপ ধরে রাখার ক্ষমতা কম তাই তাপমাত্রা যায় বেড়ে। ভাত রান্না করার সময় ভাতের হাড়ি থেকে গরম বাষ্প যেমন উপরে উঠে যায় তেমনি স্থলভাগের গরম বায়ু উঠে যায় উপরে। সৃষ্টি হয় তাপমাত্রার হেরফের, চাপের হেরফের। এই হেরফের মেটাতে সমুদ্র থেকে ছুটে আসে বায়ু। আসে তো আসে প্রবল বেগে। সাথে নিয়ে আসে প্রচুর বৃষ্টি।

  • ঘূর্ণিঝড় যখন উপকারি
তো কাহিনী যদি এমনই হয়ে থাকে তাহলে তো আমাদের জন্য ঘূর্ণিঝড় খুবই দরকারি। আসলেই তাই। ঘূর্ণিঝড় (মৌসুমি বায়ু) আমাদের জন্য খুবই দরকারি। না হলে অত্যাধিক গরমে কিংবা অত্যাধিক শীতে আমাদের জীবন হয়ে যেত বসবাসের অনুপযোগী। অতিষ্ঠ। তাপমাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করার জন্যই তৈরি হয় ঘূর্ণিঝড়। হাজার হাজার ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয় বছরে। বেশিরভাগ ই হয় সমুদ্রে। আর বেশিরভাগ সমুদ্রে উৎপন্ন হয়ে সমুদ্রেই শেষ হয়ে যায়। শুধু মাঝে মাঝে যখন ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডব লোকালয় পর্যন্ত চলে আসে তখন সেটা আমাদের জন্য হয়ে উঠে অভিশাপ স্বরূপ।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে সমুদ্রের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অবস্থানটা এমন যে এখানে ঘূর্ণিঝড় হওয়াটাই স্বাভাবিক। আমাদের দেশটা অন্য দেশের তুলনায় অবকাঠামোগত ভাবে অনেক দুর্বল। তাই সামান্য দুর্যোগ অল্পতেই ক্ষতি করে ফেলতে পারে আমাদের।


ঘূর্ণিঝড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ। প্রকৃতি বড় ছোট বাছ বিচার করে না। অনেক সম্পদশালী দেশেও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। এমন কি ভিন গ্রহেও ঘূর্ণিঝড় হয়। শুধু এতটুকুই যা সম্পদশালী দেশগুলো তাদের অবকাঠামোগত সুবিধার কারণে খুব সহজেই দুর্যোগের প্রভাব কাটিয়ে উঠতে পারে। আর আমাদের বাংলাদেশের মত দেশের জন্য সেটা হয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ।
কদিন আগে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানল ক্যাটরিনা। তাতে সম্পদের দিক থেকে যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে পৃথিবীর ইতিহাসে এমনটা হয় নি। আর বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড়ের দুঃখের কথা তো বলে শেষ করা যায় না। এক ১৯৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ে মারা গেছে প্রায় পাঁচ লক্ষের মত মানুষ। পৃথিবীর ইতিহাসে এক দুর্যোগে এত প্রাণহানি কখনো কোথাও হয় নি। ১৯৯১ সালে হয়েছিল আরেকটা বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়। দেড় লক্ষের উপরে প্রায় দুই লক্ষ মানুষ মারা গিয়েছিল তাতে। ক’বছর আগে হল “সিডর”.।. তাতে কি ক্ষতিটাই না বাংলাদেশের হয়েছে। কদিন আগে ব্রাহ্মনবাড়িয়াতে হয়ে গেল টর্নেডো। সাম্প্রতিক কালে হল “মহাসেন”।
  • এমনটা যে প্রতিদিনই হয় 
ঘূর্ণিঝড় তো বেশিরভাগ সময়ই হয় বৈশাখ মাসে বা তার আশেপাশের কটা মাসে। অন্য মাসে তেমন একটা হয় না। প্রধান কারণটা যেহেতু তাপমাত্রার তারতম্য তবে কি অন্য মাস গুলোতে তাপের তারতম্য হয় না? সূর্য উঠে না? অন্য মাসগুলোতেও সূর্য উঠে। তাপের তারতম্যও হয়। আর সেই তারতম্যের কারণে সাগর থেকে বাতাসও ছুটে আসে। তবে সেটা গ্রীষ্মের প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ের মত ভয়াবহ হয় না। আর একারণেই প্রতিদিন বিকেলে সমুদ্রপাড়ে দাঁড়ালে দেখা যায় সমুদ্র থেকে শো শো করে বাতাস ছুটে আসছে। এমনটা হবার কারণও আছে। গ্রীষ্মকালে বিষুবরেখা বরাবর লম্বভাবে সূর্যকিরণ পড়ে। তাতে মাটি তেতে উঠে প্রচুর। অন্যান্য সময় গুলোতে গ্রীষ্মের মত এত তীব্র তেজের সূর্যকিরণ পতিত হয় না। এই ব্যাপারটা যদি সবসময় সুস্থিত সুশৃঙ্খল ভাবে হত তবে কখনোই কোনও সমস্যা হত না।
  • শীতকালে ঘটে তার উল্টোটা
আগেই আমরা দেখেছি পানিকে গরম করতে হলে যেমন তুলনামুলকভাবে অধিক সময়ের প্রয়োজন তেমনি গরম পানিকে ঠাণ্ডা করতেও প্রয়োজন অধিক সময়ের। শীতকালে ডাঙ্গা তার জমানো তাপ বিলিয়ে দিয়ে তারাতারি ঠাণ্ডা হয়ে পড়ে। তাতে করে সমুদ্রের উপরকার বাতাস ডাঙ্গার বাতাসের তুলনায় হয়ে উঠে হালকা। আর তাই এবার ডাঙ্গা থেকে বাতাস সমুদ্রে যাবার পালা। উলটো ঘটনা! বাংলাদেশের ক্ষেত্রে মোটামোটিভাবে (পুরোপুরি না) এই বাতাস উত্তর দিক থেকে দক্ষিণ দিকে প্রবাহিত হয়। উত্তরে রয়েছে অনেক ঠান্ডা বরফের হিমালয় (বাংলাদেশ থেকে বেশ একটা দূরে নয়)।. তাই হিমালয়ের দিক থেকে আসা হাওয়াকে আমরা বলি “হিমেল হাওয়া”।*
তো এইখানে বলেছি মোটামোটি উওর দিক থেকে আসে হিমেল হাওয়া। যেটা মৌসুমি বায়ু।
আসলে পৃথিবী যদি স্থির থাকত, নিজের অক্ষের উপর না ঘুরত তবে বাতাসটা ঠিক ঠিক উত্তর দিক থেকেই আসতো। দক্ষিণের বাতাস ও আসতো দক্ষিণ দিক থেকেই। কিন্তু পৃথিবী প্রতিনিয়ত তার অক্ষের উপর ঘুরছে। পৃথিবীর এই ঘূর্ণন বেগ বাতাসের বেগকেও প্রভাবিত করে। সে জন্যই উত্তরের আর দক্ষিণের বাতাস সামান্য বাঁকা (কোণাকোণি) হয়ে আসে। উত্তরের হাওয়া আসে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে আর দক্ষিণেরটা আসে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে। পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে কেন এমনটা হয় সেটাও মজার জিনিস। তবে সেটা গিয়ে পড়বে পদার্থবিদ্যার ঘাড়ে। আপাতত সেই গল্প থাক।
  • সমুদ্রের প্রভাবহীন ঘূর্ণিঝড়
ঘূর্ণিঝড় হতে হলে যে অবশ্যই সমুদ্রের হাত থাকতে হবে এমন কোনো কথা নেই। সমুদ্রের প্রভাব ছাড়াও ঘূর্ণিঝড় হয়। এই কদিন আগে এমনই ঘূর্ণিঝড় হয়ে গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়। তবে সে ক্ষেত্রে সেটা সমুদ্রের মত এত তীব্রতর হয় না। ক্ষুদ্র পরিসরে তৈরি হয় আর তুলনামুলকভাবে অল্পতেই শেষ হয়ে যায়। তবে এই অবস্থায় আগাম পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব হয় না বলে ক্ষয়ক্ষতি হয় ব্যাপক। বায়ুর শূন্যতার কারণে সল্প পরিসরে ঘূর্ণিঝড়ের সৃষ্টি হলে সেটি সাধারনত আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ধরা পড়ে না।

  • ঘূর্ণিঝড়ের “ঘূর্ণি”টা কিভাবে হয়?
গরম হালকা বায়ু উপরে উঠে যাবার ফলে সেখানকার বায়ুর যে শূন্যতা সৃষ্টি হয় তা পূরণ করার জন্য চারদিক থেকে বায়ুরা ছুটে আসতে থাকে। পৃথিবীর ঘূর্ণন গতির কারণে বায়ুর এই প্রবাহ ঘুরতে ঘুরতে অগ্রসর হয়। স্তম্ভের মত হয়ে কাল্পনিক একটি অক্ষকে কেন্দ্র করে ঘুরে। এটাই ঘূর্ণির মূল। প্রবল বেগে ছুটে আসা বায়ু কেন্দ্রে(অক্ষের দিকে) প্রবেশ করে সংকুচিত হয়। ফলে বায়ুর উষ্ণতা আরও বৃদ্ধি পায়। উষ্ণতা বেড়ে গেলে বায়ু উঠে যায় উপরে। এভাবে বাতাস পর্যায়ক্রমে উপরে উঠতে থাকে। তাতে ঘূর্ণন আরও জোরালো হয়। বাইরে থেকে বাতাস যখন ভিতরে প্রবেশ করতে থাকে মানে অক্ষের কাছাকাছি যেতে থাকে তখন সমগ্র ব্যাবস্থাটির ঘূর্ণন গতি ক্রমাগত বৃদ্ধি পায়।
এর একটা সহজ ব্যাখ্যা- কেও যদি দুই হাতে ভারী বস্তু ধরে দুই হাত প্রসারিত করে ঘুরতে থাকে এবং কিছুক্ষণ পর হাত দুটো ভাজ করে ফেলে তখন তার ঘূর্ণন গতি বৃদ্ধি পায়। কারণ তখন ঘূর্ণন ভরবেগ অপরিবর্তিত রাখবার জন্য সেটা অপরিহার্য। এটাই কৌণিক ভরবেগ।
আরে এখানেও দেখি পদার্থবিদ্যা!!
এই ঘূর্ণির ভিতরে যাই পড়ে তাই নিয়ে যায় লণ্ডভণ্ড করে। মাঝে মাঝে এই ঘূর্ণি এমন শক্তিশালী হয় যে দশ তলা বাড়ি পর্যন্ত উড়িয়ে নিয়ে যায়। একটি সাধারণ টর্নেডো তে যে পরিমাণ শক্তি থাকে তা কয়েক হাজার হাইড্রোজেন বোমার চেয়েও শক্তিশালী।
  • ঘূর্ণিঝড়ের সাথে জরিয়ে আছে বিশাল বিশাল ঢেউ
ঘূর্ণিঝড় যত বেশি তীব্রতর হবে সমুদ্রের ঢেউও তত বেশি তীব্রতর হবে। তাছাড়া একটানা অনেকক্ষণ ধরে বাতাস বইলে ঢেউ হবে আরও তীব্রতর। পর্যায়ক্রমিকতার জন্য এমনটা হয়। আবার ঝড় বেশি পরিমাণ এলাকা নিয়ে হলে তার জন্যও ঢেউয়ের তীব্রতা বাড়ে। সমুদ্রের ঢেউ ঘূর্ণি এলাকা থেকে বেরিয়ে ঘূর্ণির বেগ থেকে তিন-চার গুন বেশি দ্রুতিতে সামনে এগোয়। ঘূর্ণিঝড় চলে আসার আগেই তীরে এসে পৌঁছে যায় ঢেউ। আর এই ঢেউ থেকেই অনেক সময় পাওয়া যায় ঘূর্ণিঝড়ের আগাম খবর। এখন স্যাটেলাইটের যুগ। স্যাটেলাইটের সাহায্যে খুব সহজেই ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি সনাক্ত করা যায়। মাত্র একটা স্যাটেলাইট হাজারটা আবহাওয়া কেন্দ্র থেকেও শক্তিধর!
  • হরেক রকম নাম
আমরা বিভিন্ন সময় এই দুর্যোগের বিভিন্ন নাম শুনতে পাই। যেমন টর্নেডো, সাইক্লোন, টাইফুন, হারিকেন, তুফান ইত্যাদি।

আসলে এই সবগুলো একই জিনিস। পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় এই ঘূর্ণিঝড়ের ভিন্ন ভিন্ন নাম। চীন সাগরে চীন ও জাপানের আশেপাশে এটি টাইফুননামে পরিচিত। এটি সম্ভবত চীনা শব্দ টাই-ফেংথেকে এসেছে। যার অর্থ প্রচণ্ড বাতাস। পশ্চিম ভারতীয় দ্বীপপুঞ্জে আমেরিকার কাছাকাছি আটলান্টিক মহাসাগরের এলাকায় এটি হারিকেন নামে পরিচিত। এবং বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগর ও আরব সাগর এলাকায় এটি সাইক্লোন নামে পরিচিত। বাংলার মানুষেরা অনেক সময়তুফান বলে ডাকে। টাইফুন থেকেই সম্ভবত তুফান শব্দটি এসেছে। এক ধরনের সাইক্লোনের নামটর্নেডো। অল্পস্থান জুড়ে থাকা প্রবল বেগের ঘূর্ণিকে বলে টর্নেডো।
  • বাচার উপায় 
সরাসরি বলতে গেলে ঘূর্ণিঝড় ঠেকানোর কোনও উপায় নাই। প্রকৃতির এতবড় শক্তির কাছে মানুষ একদমই অসহায়।  বিজ্ঞানিরা চেষ্টা করে যাচ্ছেন। মেঘকে কাজে লাগিয়ে, গাছকে কাজে লাগিয়ে, নানা রসায়ন ছিটিয়ে। লাভ হচ্ছে না তেমন। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে সকলের ঐক্যবদ্ধতা, সাহায্যের মনোভাব, পারস্পরিক সহাবস্থানই পারে দ্রুত বিপদ কাটিয়ে উঠতে।
  • আবহাওয়ার সতর্কতায় বিউফোর্ট স্কেল
আমরা বর্তমানে আবহাওয়া যে স্কেলে হিসাব করি, সাইক্লোনের তীব্রতা সংকেত যেভাবে পাই, ১ থেকে ১২ নং পর্যন্ত যে হিসাবে আমাদেরকে সংকেত দেয়া হয় সেটি তৈরি করেছিলেন ফ্রান্সিস বিউফোর্ট(Beaufort) নামে একজন নৌবাহিনীর এডমিরাল। আজ থেকে দু’শ বছর আগে, আবহাওয়ার বেগ মাপার আধুনিক যন্ত্রপাতি আবিষ্কার হবার আগেই।

এই স্কেলের সাহায্যে কোনো প্রকার যন্ত্রপাতির সাহায্য ছাড়াই বাতাসের বেগ নির্ণয় করা যায়। হাওয়ার দিক-বেগের কথা সবচে বেশি জানতে হয় নৌকার মাঝিদের জাহাজের নাবিকের। সেই তাগিদেই হয়তো তিনি এটা তৈরি করেছিলেন। এই স্কেলে শূণ্য থেকে বার পর্যন্ত অংক দিয়ে হাওয়ার বেগের তীব্রতা বোঝানো হয়। আবহাওয়াবিদরা এখনও এই স্কেল ব্যবহার করেন।
তার স্কেল অনুসারে সমুদ্রের নানা লক্ষণ দেখে হাওয়ার বেগ বুঝা যেত। পরবর্তীতে একেই সংশোধন করে ডাঙ্গার হাওয়ার বেগ মাপার তালিকাও তৈরি হয়েছে। এই তালিকার সাহায্যে কোনো প্রকার যন্ত্রের সাহায্য ছাড়াই ধোয়া, গাছের পাতা, গাছের ডাল অথবা ঝুলন্ত তার কিংবা কাগজের টুকরা, ধুলাবালি বা সেই বাতাসের প্রতিকূলে চলাতে বাতাসের প্রতিক্রিয়া ইত্যাদির সাহায্য নিয়ে খুব সহজেই বাতাসের বেগ নির্ণয় করা যায়।
যেমন- যদি গাছের পাতা দুলে তবে ঝড়ের বেগ ঘন্টায় ৪-৭ মাইল। আর এটি ২ নম্বর সংকেত।যদি গাছের ছোট ডাল নড়ে তবে গতিবেগ ঘন্টায় ১৩-১৮ মাইল। ৪ নম্বর সঙ্কেত।আর যদি গাছ থেকে কচি ডাল ভেঙ্গে পড়ে তবে সে ঝড়ের বেগ ঘন্টায় ৩৯-৪৬ মাইল। ৮ নম্বর সঙ্কেত।যদি বড় গাছ পালা উপড়ে যায় তবে ১০ নম্বর। গতিবেগ ঘন্টায় ৫৫-৬৩ মাইল।